সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ধানমণ্ডিতে এক তরুণীর গলায় ফাঁস — কর্মক্ষেত্রের চাপ নাকি অন্য কিছু?

Spread the love

রাজধানীর ধানমণ্ডি, সোহানবাগ এলাকায় অবস্থিত বাসা থেকে এক তরুণী গ্রাফিক্স ডিজাইনারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিপিএম ২৬ কোঠার ওই লিফটেড অ্যাপার্টমেন্টে শনিবার সন্ধ্যার দিকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তাঁকে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতুর নাম হলো স্বর্ণময়ী বিশ্বাস (২৬)। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিম–এ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ ও কর্মক্ষেত্রএদিকে, খবর রয়েছে — স্বর্ণময়ীর সহকর্মীরা দাবি করছেন যে তিনি সম্প্রতি বাংলা বিভাগ-প্রধান আলতাফ শাহনেওয়াজকে লিখিতভাবে যৌননিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের পর অভিযুক্তকে কোম্পানির সাংবাদিকরা “অপসারণ করা হয়েছিল” বললেও পরবর্তী সময়ে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে — জুলাই মাসে ওই অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল “কর্মক্ষেত্রে অনুপযুক্ত আচরণ” সম্পর্কিত অভিযোগ। পরে একটি দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কোম্পানির বিবৃতি অনুসারে, সেই কমিটি অনুসন্ধান করে কিছু অনিয়মের বিষয় খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু তারা বলেছে যে সোর্সের মৃত্যু-ঘটনায় অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। ঘটনার সময়সীমা ও পুলিশি অনুসন্ধানপুলিশি তথ্য মতে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে (পরিবার জানাচ্ছে ৬ টায় বাৎসরিক সময়) স্বর্ণময়ীর লিফটেড কক্ষের দরজা দীর্ঘ সময় খোলেনি। সতর্ক হয়ে পরিবার সদস্যরা চাবি দিয়ে ঘর খুলে গেলে তাঁকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। এছাড়া, তাঁর হাতে রগ কাটার মতো ক্ষতও পাওয়া গেছে। পুলিশ এখন এটি আত্মহত্যার সম্ভাব্য কেস হিসেবে অনৈতিক মৃত্যুর (UD) মামলা দায়ের করেছে। কর্মীরা বলছেন — গত শুক্রবার রাতেই তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন এবং প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক উদ্বেগএই ঘটনা দেশব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। কর্মক্ষেত্রে হাঁামানবিক আচরণ, যৌননিপীড়ন, দায়িত্বহীনতা নিয়ে আলোচনা চলছে। নারীর নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা বিষয়ক অধিকার নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বিগ্ন হয়ে সামাজিক বার্তা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ঢাকা স্ট্রিমের পক্ষ থেকে বলা হয়, “স্বর্ণময়ীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই”। তবে সহকর্মীরা বলছেন, পুনর্বহালের বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাব ফেলেছে।—আগামী করণীয় ও অনুসন্ধানপুলিশি ময়নাতদন্তের পরবর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি উঠেছে।কর্মীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও অভিযোগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় আলোচনার দরকার দেখা দিয়েছে।প্রতিষ্ঠানটির আচরণবিধি, নিয়ম-কানুন ও অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *