সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন লাক্কাতুরা চা বাগানের ভাইগণ নামক টিলায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত নারী রাবেয়া বেগম (২৫) — সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার থানার মওলারপাড় গ্রামের মৃত মাহতাব মিয়ার কন্যা।গত ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ লাক্কাতুরা চা বাগানের ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে আংশিক পচনধরা অবস্থায় নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরনে ছিল লাল রঙের শাড়ি, হালকা গোলাপি বোরকা এবং গলায় হলুদ ওড়না পেঁচানো। ঘটনাস্থল থেকে একটি লেডিস ব্যাগ ও মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়।পিবিআই ও সিআইডি আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে মেমোরি কার্ডে থাকা কথোপকথনের অডিও বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে রাবেয়ার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে নিহতের স্বামী ফারুক আহমেদ (ওমান ফেরত)-এর নাম।পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭ অক্টোবর রাতে সুনামগঞ্জের রাঙ্গারচর গ্রাম থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে হত্যার কথা অস্বীকার করলেও প্রমাণ উপস্থাপন করলে সে স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করে।জবানবন্দিতে ফারুক জানায়, ওমানে অবস্থানকালে স্ত্রীর পূর্বের বিবাহ গোপন করা ও পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত ১৩ অক্টোবর স্ত্রীকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের কথা বলে সিলেটে আসে এবং বেড়ানোর নাম করে লাক্কাতুরা টিলায় নিয়ে গিয়ে ফুফাতো ভাই আলামিনের সহায়তায় গলা টিপে হত্যা করে।পরে নিহতের চাচা রিপন মিয়া বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা (নং-১৭, তারিখ ১৭/১০/২৫) দায়ের করেন। শনিবার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আদালতের নির্দেশে ফারুককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সহযোগী আলামিনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

