মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেন সংকট মেটাতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে এক শীর্ষসন্মেলন করবেন। যদিও বৈঠক কখন এবং কি আকারে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রগতির নতুন দিশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিন ও আমি একটি সম্মতিতে বসে বুদাপেস্টে দেখা করব, যেন আমরা এই ‘নির্লজ্জ’ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারি।” এই ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের ফোন আলাপ হয়েছিল, যেটিকে দু’পক্ষই “উৎপাদনশীল ও খোলামেলা” বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রসচিব মারকো রুবিও নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে এবং তার পরবর্তী আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ হবে। —🟡 পূর্বপরিকল্পনা ও প্রেক্ষাপটএই পরিকল্পিত বৈঠকটি সেই Anchorage, Alaska–তে অনুষ্ঠিত আগস্টের ট্রাম্প–পুতিন শীর্ষসভার পর দ্বিতীয় বৈঠক হবে, যেখানে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা গড়া সম্ভব হয়নি। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইতিমধ্যে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং “হাঙ্গারি হলো শান্তির দ্বীপ” এমন উদ্বোধনী ঘোষণা দিয়েছেন। ক্রেমলিন জানান দিয়েছে যে ট্রাম্প–রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ আগামী দিনে বৈঠক করবেন, যা এই বড় বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ। রাশিয়া আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যদি যুক্তরাষ্ট্র টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে সরবরাহ করে, তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও শান্তিপূর্ণ পরিপ্রেক্ষিতকে বিপর্যস্ত করতে পারে। —🟢 ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক ও ইউক্রেনকে সমর্থনট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপের ঠিক পরের দিন, ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবেন। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পরিকল্পনা হলো দীর্ঘ-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে টমাহক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ সমর্থন দাবি করা। জেলেনস্কি ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, “টমাহকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আমাদের বৈঠকের মূল অঙ্গ হবে।”

