মাদাগাস্কার রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রি রাজোলেনা দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার তীব্রতা কাটিয়ে উঠতে না পেরে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছেন বলে জানান বিরোধীপক্ষ নেতা ও অন্যান্য সরকারী শাখার সূত্র। রবিবার রাতে এক ফরাসি সামরিক বিমান তাকে বহন করে দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় — এমনটাই দাবি করেছে এক সেনা সূত্র ও ফরাসি রেডিও RFI। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেনাবাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট CAPSAT গত কয়েক দিনে সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহযাত্রী হয়ে বিদ্রোহে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট অফিসের পক্ষ থেকে সোমবার রাষ্ট্রের উদ্দেশে ভাষণ দিবেন — এমন বিবৃতি দিলেও, ভাষণের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। meanwhile বিরোধীদল বলছে, রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে আছেন ও তার অবস্থান অজানা। বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে, প্রথমে পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বিরুদ্ধে; কিন্তু দ্রুতই তা গভীর সামাজিক নিকৃষ্টতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অবনতির অভিযোগে রূপ নেয়। জরুরি সঙ্কেত হিসেবে, ইতিমধ্যে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। CAPSAT ইউনিট সরকারকে ত্যাগকারী হিসেবে ঘোষণা করে বলেছে, তারা আর জনগণের প্রতি গুলি চালাবে না এবং আন্দোলনকে সমর্থন করবে। গন্ডারমারির একটি অংশও সরকারের পদক্ষেপ বাতিল করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেনাবাহিনী ও গুণদার্মির এই ভাগাভাগি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, মাদাগাস্কারের সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল ডেমোস্তেনে পিকুলাস মনোনীত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে “দেশ নিয়ন্ত্রণে রাখা” দাবি করেছে নতুন নেতৃত্ব, তবে তাদের দাবি — তারা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাসন ফিরিয়ে দিতে চান। মাদাগাস্কারে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি না থাকলে, আইন অনুযায়ী সংসদের প্রধান—বর্তমানে জান আন্দ্রে ন্দ্রেমনজারি—অস্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রে জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন “রাষ্ট্রপতিকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে”। ২২ বছর বয়সী হোটেল কর্মী আড্রিয়ানারিভনি ফানোমেগোসোয়া বলছেন, “প্রতি মাসে ৩,০০,০০০ আড়িয়ারি ঘরে আনতে পারি না — আমাদের ভিত্তিগত চাহিদা মেটানোর মতোও বেতনের সুযোগ নেই।” মাদাগাস্কার আজ একটি রাজনৈতিক ফাঁকের মুখে দাঁড়িয়েছে — জনমতের চুম্বনে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত। আন্তর্জাতিক মহল—বিশেষ করে আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহ ও ফ্রান্স—চোখ রাখছে আয়োজিত এই পরিবর্তনের দিকে।
মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট এর পলায়ন: জেন Z আন্দোলন ও সেনাবাহিনীর বিদ্রোহে অর্থব্যবস্থা দিশাহীন

