নিউক্যাসল ইউনাইটেডের তারকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক এখন আর টাইনসাইডের নন। ব্রিটিশ রেকর্ড ১৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন অ্যানফিল্ডে। তবে তার এই বিদায়ের আগাম আভাস পেয়েছিলেন আরেকজন – তার ব্যক্তিগত হেয়ারস্টাইলিস্ট ও নিউক্যাসলের সমর্থক আদেকুনলে আগবাবিয়াকা।ইসাকের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নরসুন্দর আগবাবিয়াকা জানান, ডেডলাইন ডে’তে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি ইসাকের বাড়িতে গিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক কাটিং সম্পন্ন করেছিলেন। “সে সাধারণত শুধু মেসেজ দেয়, কিন্তু ওইদিন সরাসরি ফোন করেছিল। তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, কিছু একটা হতে যাচ্ছে।” – বলেন আগবাবিয়াকা।তিনি যোগ করেন, “আমি সাধারণত অর্ধঘণ্টায় কাজ শেষ করি। কিন্তু ওইদিন প্রায় ৫০ মিনিট সময় নিয়েছিলাম, কারণ জানতাম এটি হয়তো বিশেষ দিন। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘ভাই, জানি না কী হচ্ছে কিন্তু চাই তুমি থেকে যাও, যেন আমরা প্রতি বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে পারি।’ সে শুধু হেসেছিল।”নিউক্যাসল ভক্ত হলেও ইসাকের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা তার অটুট থাকবে বলে জানান আগবাবিয়াকা। “বন্ধুত্বের জায়গায় এটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় যে সে কোন দলে খেলছে। তবে ফুটবলীয় দিক থেকে, সে আর আমার দলে নেই।”২০১৪ সালে লন্ডন থেকে টাইনসাইডে আসার পর থেকেই প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলারদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এই নরসুন্দর। শোলা আমেওবি, ওবাফেমি মার্টিনস থেকে শুরু করে আদামা ট্রাওরে, কেলেচি ইহেনাচো, ক্যালাম উইলসন, জামাল ল্যাসেলস—সবাই তার নিয়মিত ক্লায়েন্ট। ইসাকও ২০২২ সালে রিয়াল সোসিয়েদাদ থেকে আসার আগে গোপনে তার কাছে প্রথম ট্রিম করিয়েছিলেন।খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতার কারণে অনেক সময় পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি অর্থ পান তিনি। “স্ট্যান্ডার্ড কাটিংয়ের দাম ৬০ পাউন্ড হলেও অনেকেই ৫০ পাউন্ডের নোট গুঁজে দেন হাতে। জন্মদিনে ল্যাসেলস আর উইলক আমার জন্য ৩ হাজার পাউন্ড খরচ করেছিলেন।” – বলেন আগবাবিয়াকা।ইসাকের জন্য তিনি বিশেষভাবে নিউক্যাসল-থিমযুক্ত ‘ইসাক ১৪’ লেখা গাউন তৈরি করেছিলেন। বিদায়ের আগে সেটিতেই ছিল তাদের শেষ কাটিং। এখন প্রশ্ন কেবল একটাই – লিভারপুলে নতুন জীবন শুরু করলেও, কি আবার ডাক আসবে আগবাবিয়াকার কাছে?
সূত্র: The Sun (UK)




