ডেস্ক রিপোর্ট:
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, ইউক্রেন ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি রাশিয়ার এই দাবিকে শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করার একটি কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দাবি করেন, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় নভগোরদ অঞ্চলে পুতিনের রাষ্ট্রীয় বাসভবন লক্ষ্য করে এই বিশাল ড্রোন হামলা চালানো হয়। লাভরভ জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ৯১টি ড্রোনই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনার জেরে রাশিয়া শান্তি আলোচনায় তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
রাশিয়ার এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি একে রাশিয়ার স্বভাবসুলভ মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেছেন। জেলেনস্কির মতে, ক্রেমলিন ইউক্রেনের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালানোর অজুহাত হিসেবে এই মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে চুপ থাকা উচিত নয়, কারণ তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপে ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প এই খবর শুনে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, পুতিন তাকে হামলার কথা জানিয়েছেন এবং তিনি এতে ক্ষুব্ধ, তবে হামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হয়তো হামলাটি ঘটেনি, সেটাও সম্ভব। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটলো যখন ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, এই বিষয়ে চুক্তি প্রায় ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে।
রাশিয়া বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পুতিনের বাসভবনে এই কথিত হামলার অভিযোগ শান্তি আলোচনার অগ্রগতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মস্কো শান্তি আলোচনা থেকে পুরোপুরি সরে না আসলেও, তাদের অবস্থান যে আরও কঠোর হবে, লাভরভের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি

