মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবময় দিন। সুদীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) লাখো মানুষের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেন। তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত ঘোষণা “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব।
এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” মুহূর্তেই বাঙালির হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা।মাত্র ১৯ মিনিটের সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু পুরো জাতির সামনে তুলে ধরেন স্বাধীনতার রূপরেখা। তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।
তাঁর এই ভাষণ ছিল একদিকে প্রতিবাদের আহ্বান, অন্যদিকে স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতির নির্দেশনা। সেই আহ্বানে উজ্জীবিত হয়ে দেশের ঘরে ঘরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, আর বাঙালি জাতি এগিয়ে যায় স্বাধীনতার মহাযাত্রায়।বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক অমূল্য দলিল। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গৌরব ও মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছিল।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার ভিন্ন বাস্তবতায় এসেছে ৭ মার্চ। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং দলের অনেক শীর্ষ নেতা কারাগারে রয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালনের সুযোগও নেই।তবু ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যায় না ৭ মার্চ। স্বাধীনতার ডাকের সেই দিনটি আজও বাঙালির সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের অমর প্রেরণা হয়ে রয়েছে।

