শহীদুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
প্রকৃতির স্পষ্ট শীত বার্তা নিয়ে সন্ধ্যা নামতেই হিমেল হাওয়া জেঁকে বসতে শুরু করেছে ঢাকার উপকণ্ঠে। এই মৌসুমি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উষ্ণতা পেতে শুরু হয়েছে শীতবস্ত্রের কেনাকাটা। কিন্তু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা এখন কেবল দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ এই তিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারের টং মার্কেট।
শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অস্থায়ী ফুটপাত কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। যদিও টং বাজার পুরোনো কাপড়ের জন্য পরিচিত, তবে এই অঞ্চলের দোকানগুলোতে মূলত নতুন কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম দামের আমদানি করা শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে।স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা শীত নিবারণের জন্য এই বাজারগুলোর ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
কম্বলের স্তূপ, সারি সারি সোয়েটার, জ্যাকেট ও কানঢাকা টুপির পসরা সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন ন।দেখা গেছে, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে টং মার্কেটে পা ফেলার জায়গা থাকে না। ক্রেতারা ধৈর্য ধরে দরদাম করে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দের শীত বস্ত্রটি সংগ্রহ করছেন।
বিক্রেতাদের ধারণা, এই ভিড় আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যা তাদের মৌসুমি আয়ের মূল সময়। বিক্রেতারা শীতবস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন। তাদের মতে, আমদানিকৃত কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারেও দামের তারতম্য দেখা যাচ্ছে। টং মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, মূলত দুই সপ্তাহ আগে থেকেই বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে বাচ্চাদের কাপড়, মাফলার এবং নারীদের শাল-এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
টং বিক্রেতা দোহারের জয়পাড়া বাজারের আব্দুল কুদ্দুস (৪০), জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত, অন্যান্য বছর শীত আসতে দেরি হলেও এবার আগেভাগেই ঠান্ডা পড়েছে। দাম সামান্য বাড়লেও বিক্রি এখন জিরো-পয়েন্টে, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হচ্ছে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারি দরে কিনে টং এ বিক্রি করছেন। তিনি আরও তথ্য দিয়ে জানান, এখানে একটি ভালো মানের ছোট বাচ্চাদের সোয়েটার ১৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
সাশ্রয়ী দামই এই বাজারের সাফল্যের মূল কারণ।অন্যদিকে, একই বাজারের মধ্যবিত্ত ক্রেতা আব্দুল মতিন বলেন, টং বাজারে খুঁজে কিনলে পরিবারের সবার জন্য সাধ্যের মধ্যে গরম কাপড় কেনা সম্ভব হয়। নতুবা আমাদের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হতো। তিনি বলেন, যে সব কাপড় টংএ বিক্রি হয় তা এক্সপোর্টের মালামাল।
এমনকি রিজনেবল প্রাইজের মধ্যে খুবই সুন্দর এবং ভালো পোশাক পাওয়া যায়। যে মালটা মার্কেটে কিনতে লাগে ৭০০ টাকা, এই জায়গায় সেটা ২০০/২৫০ টাকা হলে পাওয়া যায়। এই কারণে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত লোকদের জন্য আমি মনে করি এটা খুব ভালো ধরনের একটি মার্কেট।স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ, এই টং বাজার কেবল শীতবস্ত্র সরবরাহের মাধ্যম নয়, বরং এটি এই তিন উপজেলার মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বজায় রেখে মানবিক উষ্ণতা জোগানোর এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই মার্কেটের ব্যাবসায়িক কর্মচাঞ্চল্য জানান দিচ্ছে, ঢাকার উপকণ্ঠের গ্রামীণ অর্থনীতি এই মৌসুমি চাহিদার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

