সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

স্বর্ণালী ফসলে কৃষকের ঘরে সুখের আনাগোনা

Spread the love

জায়েদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:বাংলার গ্রামীণ জনজীবনের এক অপরিহার্য ঋতু এখন হেমন্ত। হিমেল পরশ ও সোনালী রোদের এই দিনে মাঠে মাঠে যতদূর চোখ যায়, কেবল সোনালি পাকা ধানের সমুদ্র। হালকা বাতাসে সেই ধান দোলে, আর প্রতিটি দোলায় যেন কৃষকের মুখে আনন্দের রেখা ফুটে ওঠে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে এখন আমন ধান কাটা, মাড়াই ও নবান্নের ব্যস্ত প্রস্তুতি। কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ধান ওঠার এই ক্ষণটি এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।ভোরের সূর্য উঠতেই কাস্তে হাতে নেমে পড়ছেন কৃষকরা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ কাটাধান বেঁধে রাখছেন আঁটি আকারে, আবার কেউ ধান মাড়াই করে সোনালি শস্য ও খড় আলাদা করছেন। এই কঠোর পরিশ্রমে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করতে দেখা যায়।কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লঙ্গুরপার গ্রামের কৃষক আবাছ মিয়া তৃপ্তির হাসি হেসে বলেন, “এবার ফলন সত্যিই খুব ভালো। সময়মতো বৃষ্টি আর রোগবালাই কম হওয়ায় ধানের শীষ ভরে উঠেছে। ফলন দেখে আমরা সবাই খুশি।একই গ্রামের কৃষক সোয়েব আহমেদ তাঁর মনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এই দিনটার জন্যই তো আমরা সারা বছর ঘাম ঝরাই। এখন ঘরে নতুন ধান উঠবে। সেই ধান দিয়ে পিঠা-পায়েস বানাবো, নবান্ন করবো আর সন্তানদের মুখে হাসি দেখবো। এটাই আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ পাওয়া।”ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামবাংলায় শুরু হয় নবান্ন উৎসব। নতুন চাল দিয়ে তৈরি হয় মুখরোচক নানা ধরনের পিঠা-পায়েস সহ নানা আয়োজন। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী সবাই মিলে এক ছাদের নিচে অংশ নেয় এই আনন্দ ভাগাভাগিতে, যা মিলন আর ভালোবাসার বার্তা বহন করে।অগ্রহায়ণের এই সময়টিই যেন কৃষকের দীর্ঘ পরিশ্রমের সার্থক প্রতিদান। দীর্ঘ এক বছরের ঘাম ঝরানোর পর সোনালি ফসল ঘরে তোলা মানেই পরিতৃপ্তির হাসি।কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, এবছর কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার ৯ শত ৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষিপণ্যের সময়মতো সঠিক পরিচর্যার ফলে ধানের শীষ পরিপূর্ণ হয়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় ফলন ও উৎপাদন দুই-ই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পেলে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *