জাতিসংঘের পাশাপাশি ইয়েল ইউনিভার্সিটির হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে ‘গণহারে নিহতদের লাশের স্তূপ’ এবং শহরের প্রাচীর ভাঙার চেষ্টাকারী বেসামরিক নাগরিকদের স্নাইপার দিয়ে গুলি করে নিহত করার মতো বী*ভৎস চিত্র দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে। রিসার্চ ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক এই মাত্রার হত্যাকাণ্ডকে তাদের ২৫ বছরের কর্মজীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। * সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার: সোমবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে সুদানের সামরিক প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ‘নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ধ্বংস এবং হত্যাকাণ্ড’-এর প্রতিক্রিয়ায় সেনা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানান। তবে তিনি আরএসএফ-এর নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা জানান এবং দেশকে ‘এই বিশ্বাসঘাতকদের দ্বারা অপবিত্র ভূমি থেকে মুক্ত করার’ অঙ্গীকার করেন। * নিহতের সংখ্যা: সামরিক বাহিনীর সমর্থক দারফুরি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট জয়েন্ট ফোর্স দাবি করেছে, শহর পতনের পর ২,০০০ বেসামরিক নাগরিক নি*হত হয়েছে, যদিও এর স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়নি। * যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: শহর থেকে পালিয়ে আসা বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আরএসএফ শহর দখলের পর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা ভেতরে আটকে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। একজন ব্যক্তি তার বেশ কয়েকজন আত্মীয় ‘এক জায়গায় জড়ো করে গণহারে নি*হত’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন। * স্বাস্থ্যসেবা আক্রমণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এল-ফাশেরে চালু থাকা একমাত্র আংশিক হাসপাতালটিও আরএসএফ-এর হামলায় আক্রান্ত হয়েছে এবং এতে একজন নার্স নি*হত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগজাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শহরের পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সকল যুদ্ধরত পক্ষের উত্তেজনা কমাতে’ আহ্বান জানিয়েছে, আর আফ্রিকান ইউনিয়ন ‘কথিত যুদ্ধাপরাধ এবং জাতিগতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার’ নিন্দা করেছে।২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নি*হত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এল-ফাশেরের পতন এই সংঘাতের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং এটি দারফুর অঞ্চলে ব্যাপক জাতিগত সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।সূত্র (Sorce): বিবিসি আফ্রিকা

