সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬

সীমান্ত চরের ভোটারদের ভোটযাত্রা:হাঁটা পথ, নৌকা আর উৎসবের আমেজ

Spread the love

জহুরুল হক জনি, স্টাফ রিপোর্টার।

লালমনিরহাটের ধরলা নদী পাড়ি দিয়ে বালুচর ডিঙিয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন ফলিমারী চরের সীমান্ত এলাকার মানুষ।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন এবং পুনরায় নৌকাযোগে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বয়ে গেছে ধরলা নদী। নদীর ওপারে সীমান্তঘেঁষা ফলিমারী চর এলাকায় সহস্রাধিক বাংলাদেশির বসবাস।ওই চরে ভোটার সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।ধরলা নদী কার্যত এই চরের মানুষকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। চরের বাসিন্দারা নদী ও বালুচরের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। বালুচরে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফসল চাষ করে সংসার চালান তারা।

সকাল থেকে দেখা গেছে, প্রায় দুই কিলোমিটার বালুচর হেঁটে নদীর ঘাটে এসে নিজ খরচে নৌকাযোগে ধরলা নদী পার হচ্ছেন ফলিমারী চরের নারী ও পুরুষ ভোটাররা।এরপর সদর উপজেলার মোগলহাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র (পুরুষ) এবং মোগলহাট কর্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (নারী) গিয়ে ভোট দিচ্ছেন। ভোট শেষে আবার নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছেন তারা।ভোটারদের চোখেমুখে ছিল উৎসবের আমেজ।ষাটোর্ধ্ব মহিলা ভোটার চাঁনবালা পান চিবোতে চিবোতে হাসিমুখে হাতে অমোচনীয় কালি দেখিয়ে বলেন, ১৭ বছর পর এবার ভোট দিবার পানু বাহে। বেটার বউ, বেটি (মেয়ে) সবায়গুলা একসাথত আসি ভোট দিনু।একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস (৬৫) বলেন, চরের বেশিরভাগ ভোটার ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন নাই। গত তিনবারের সংসদ নির্বাচনেও অনেকেই টাকা খরচ করে ভোট দিতে আসেন নাই।

শুনেছি আমাদের ভোট অন্যজনে দেয়।তবে এবার দুই কিলোমিটার বালুচর হেঁটে এসেও ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। পরিবারের সবাই ভোট দিতে এসেছি।লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসনের ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মোগলহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র মোগলহাট উচ্চবিদ্যালয় ও কর্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এই দুই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৮৩০ জন এবং নারী ভোটার ২ হাজার ৯৩৩ জন।প্রথম আড়াই ঘণ্টায় মোগলহাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৩ শতাংশ এবং কর্ণপুর কেন্দ্রে ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।মোগলহাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে। ভোটাররা যাতে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *