সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্ট রুখতে সরকারের হটলাইন চালু

Spread the love

কাজী সাজিদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টারঢাকা:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে উসকানি, ঘৃণা ছড়ানো কিংবা সহিংসতা প্ররোচনামূলক কোনো পোস্ট চোখে পড়লে তা দ্রুত সরকারের নজরে আনার জন্য বিশেষ হটলাইন ও অফিসিয়াল ই-মেইল সেবা চালু করেছে সরকার।

‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি’ (NCSA)-এর উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য—অনলাইনে উসকানি, গুজব ও সহিংস প্রচার ঠেকিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।যেসব মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবেসরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের জন্য অভিযোগ জানানোর দুটি নির্দিষ্ট ও সহজ মাধ্যম উন্মুক্ত রাখা হয়েছে—• হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইন: ০১৩০৮ ৩৩২ ৫৯২• অফিসিয়াল ই-মেইল: notify@ncsa.gov.bdএই ঠিকানাগুলোতে যে কেউ সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক পোস্টের লিংক, স্ক্রিনশট বা প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে পারবেন।

কীভাবে নেওয়া হবে ব্যবস্থাডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, সরকার সরাসরি কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট মুছে ফেলবে না। বরং একটি আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—১. অভিযোগ গ্রহণ:নাগরিকরা হটলাইন বা ই-মেইলের মাধ্যমে বিতর্কিত কনটেন্টের তথ্য পাঠাবেন।২. প্রাথমিক যাচাইকরণ:ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখবে—– তা দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করছে কি না– ঘৃণা, সহিংসতা বা সন্ত্রাসে উসকানি রয়েছে কি না৩. বিটিআরসি-তে প্রেরণ:অভিযোগ যৌক্তিক ও প্রমাণিত হলে বিষয়টি পাঠানো হবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর কাছে।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট:বিটিআরসি আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম (ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ইত্যাদি)-কে যথাযথ কারণ দেখিয়ে কনটেন্টটি অপসারণের অনুরোধ জানাবে।আইন ও সতর্কবার্তাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে ঘৃণা ছড়ানো, সহিংসতায় প্ররোচনা দেওয়া কিংবা সন্ত্রাসবাদ প্রচার করা ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে সকল নাগরিককে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই হটলাইন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে গুজব ও সহিংস উসকানি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *