সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

শপথের দিনেই নতুন অধ্যায়: প্রত্যাশা-চ্যালেঞ্জের ভার নিয়ে শুরু হচ্ছে সরকারের পথচলা।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ আজ। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের পথচলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তার পছন্দ অনুযায়ী মন্ত্রিসভা সাজাবেন।

তিনি যাদের উপযুক্ত মনে করবেন, তাদের নাম প্রস্তাব করবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথের জন্য আহ্বান জানাবেন। এরপর দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হবে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় থাকছেন তা নিশ্চিত না হলেও অভিজ্ঞ ও নতুন দুই ধরনের নামই আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিতা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়া-র রাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করে তারেক রহমান সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে পারেন।নতুন সরকারের সামনে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের সমন্বয় জরুরি।

বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও অর্থ এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, মন্ত্রিসভার আকার খুব বড় হবে না; প্রায় ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের অবসানের পর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র কাঠামো অস্থির অবস্থায় ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে পূর্ণ কাঠামো না থাকায় অনেক প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলেনি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আজ সকালে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণের কথা রয়েছে।অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এখন নতুন সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরকার গঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নতুন মুখ বা শুধু অভিজ্ঞদের উপর নির্ভর না করে দুইয়ের ভারসাম্য রেখে মন্ত্রিসভা গঠন করলে সরকার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কারে দক্ষ মন্ত্রী নিয়োগের দাবি তুলেছেন সাধারণ নাগরিকরাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *