একসময় ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত, অশিক্ষিত কিন্তু সহজ-সরল রিপন মিয়া আজ কোটি ভিউয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তাঁর গ্রামের সহজ জীবন, সরলতা আর স্বভাবজাত হাস্যরস দিয়ে তিনি জয় করেছেন লাখো মানুষের মন। নিরক্ষর হওয়ায় কমেন্টের উত্তর ভয়েসের মাধ্যমে দিতেন, সেই রিপনই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার এক আলোচিত মুখ। কিন্তু তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং বিপুল ইনকামের সিংহভাগই তাঁর হাতে পৌঁছাচ্ছে না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রিপন মিয়ার নামে পরিচালিত ফেসবুক পেইজগুলো থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আয় হলেও সেই আয়ের নিয়ন্ত্রণ তাঁর কাছে নেই। তাঁকে মাসে সামান্য কিছু টাকা দেওয়া হয়, যা নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট থাকেন। অথচ এই বিপুল অর্থ যদি সরাসরি তাঁর হাতে পৌঁছাতো, তবে হয়তো তাঁর পরিবারকে আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হতো না। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রিপনকে ঘিরে অনেকেই আর্থিকভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও, রিপন মিয়ার ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে সামান্যই।সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে রিপনের বিরুদ্ধে মা-বাবাকে দেখাশোনা না করার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে তাঁর জীবনযাপন ও আয়ের উৎসের প্রকৃত চিত্র না দেখলে তাঁর পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রিপন মিয়া সম্প্রতি মিডিয়ার সামনে নিজেকে অবিবাহিত বললেও, তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী-সন্তান আলাদাভাবে জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।রিপন মিয়া নিজেও স্বীকার করেছেন যে তাঁর ফেসবুক পেইজ অন্যরা পরিচালনা করে। এমনকি তাঁর নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্ট বা স্ট্যাটাসগুলোও তিনি নিজে লিখতে পারেন না, কারণ তিনি নিরক্ষর। এর ফলে এমন সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে যে, যারা তাঁর কনটেন্ট এবং পেইজ পরিচালনা করছে, তারাই তাঁকে আড়ালে রেখে নিজেদের ইনকাম নিশ্চিত করছে। এমনও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, আসল সত্য যেন জনসমক্ষে না আসে, সেজন্য রিপনকে চুপ থাকতে শেখানো হয়েছে।এই সহজ-সরল মানুষটির প্রাপ্য সম্মান ও ন্যায্য আয় যেন তাঁর হাতে পৌঁছায়, সেই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। এই ধরনের অসচ্ছল এবং সরল মানুষকে ব্যবহার করে অন্যদের ভাগ্য বদলের খেলায় যেন রিপন মিয়ার মতো মানুষের জীবন দুর্বিষহ না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর পরিবারের (মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান) প্রতি যেন তিনি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য তাঁর আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়া একান্ত প্রয়োজন।রিপন মিয়ার জীবনের এই নেপথ্য কাহিনী সোশ্যাল মিডিয়ার গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে।রিপোর্টের তথ্যসূত্র: এস এম আকবর (পর্যবেক্ষক)

