সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

রমজান সামনে রেখে ডলারের বাজারে চাপ: আমদানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি বিতর্ক।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে দেশে আমদানির চাহিদা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের অগ্রিম আমদানির চাপের ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের জোর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, মাত্র এক সপ্তাহে দুটি অকশনের মাধ্যমে ১৮৬ মিলিয়ন (১৮.৬০ কোটি) ডলার কেনা হয়েছে, যা আন্তঃব্যাংক গড় দামের চেয়েও বেশি মূল্যে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনা হচ্ছে।

তবে আমদানিকারকরা মনে করছেন, এর ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং দাম আরও বাড়ছে, যা আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত মে মাসে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়। এরপর থেকে ব্যাংকগুলো চাহিদা–জোগানের ভিত্তিতে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলসি খোলার প্রবণতা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়া এবং রমজানের আগে জরুরি পণ্যের আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

এর মাঝেও নিয়মিত ডলার কেনার কারণে আমদানিকারকরা অতিরিক্ত চাপে পড়ছেন।চট্টগ্রামের একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের একজন কর্মকর্তা বলেন, রমজানের আগে ডলারের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনলে ব্যাংকগুলো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়, যা আমদানি ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। তার মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আমদানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন; তাই নীতিনির্ধারকদের আরও সতর্ক ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানান, বাজারে কৃত্রিম হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না; বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে অতিরিক্ত ডলার আছে, তাদের কাছ থেকেই নিলামের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণে ডলার কেনা হচ্ছে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকার ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলেও তিনি জানান। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে। সর্বশেষ দুই অকশনে গড় ক্রয়মূল্য আন্তঃব্যাংক দামের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাজারদরে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে বলে আমদানিকারকরা দাবি করছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধুমাত্র গত নভেম্বর মাসেই এলসি খোলা হয়েছে ৫৫৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা রমজানকে সামনে রেখে আমদানির চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট এলসি খোলা হয়েছে ২ হাজার ৯৪১ কোটি ডলার যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৫৯ শতাংশ বেশি। তবে একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ২.৬৬ শতাংশ।সার্বিকভাবে, রমজানকেন্দ্রিক আমদানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা দুটি বিষয়ই বাজারকে চাঙা করে তুলছে। তবে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ও আমদানির খরচের ওপর কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে নীতি সমন্বয় কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *