সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

যুবদল নেতা খায়েরের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মাদক কারবারের অভিযোগ

Spread the love

মোঃ ছাব্বির খান, কালিয়া উপজেলার প্রতিনিধিঃ

নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা খায়ের মোল্লা ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, জুয়া, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় খায়ের মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা প্রকাশ্যে ভোট কারচুপি ও বিরোধী দলের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিত।স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে খায়ের মোল্লা বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সাথে ঘনিষ্ঠতার মধ্যে দিয়ে আগের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।

তাঁর দুই ভাই শিপন মোল্লা ও মাহাবুর মোল্লা এবং শিপনের স্ত্রী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর ভাগ্নে পারভেজ আওয়ামী লীগের সময় বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট কাটায় জড়িত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।অভিযোগে বলা হয়, নড়াইল সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের তারা পুর গ্রামে বিএনপি সমর্থক খলিল শেখের বাড়িঘর ভেঙে তাকে এলাকা ছাড়া করা হয়।

পরে তাকে মারধর করে পঙ্গু করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সিঙ্গার শুলপুর বাজারের কাছে তাজ বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে পঙ্গু করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অপরাধ ছিল বিএনপির একজন পদধারী কর্মী হওয়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খায়ের মোল্লা এলাকায় জুয়া, প্রতারণা ও মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। তাঁর মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে শিশু ও কিশোররা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং সমাজে ভয়াবহ অবক্ষয় দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার ইউনিয়নে (সিংগাশোলপুর) থাকতে হলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল করতে বাধ্য করা হতো।

কেউ দল না করলে মারধরের শিকার হতে হতো। দল না করার অপরাধে খলিল শেখকে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং পরে তাঁর ভাইয়ের ছেলেকেও সিঙ্গার মোড় এলাকায় মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় লিকু, টিটু,বাবার নাম সালাম মোল্লার ছেলে, মনিরসহ খায়ের মোল্লা ও তাঁর ভাই মাহাবুর মোল্লার নাম উঠে এসেছে।এছাড়া খায়ের মোল্লা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার মধ্যে চাঁদপুরে এক নারী হত্যার মামলা এবং গ্রামে একজনকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

ভয় ও আতঙ্কের কারণে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে জানান স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *