নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহা বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। দেশের সাধারণ জনতা থেকে শুরু করে ছাত্রসমাজ যখন এই মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত এক স্ট্যাটাস দিয়ে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা। ওসমান হাদীর খুনিদের এখনো আইনের আওতায় না আনায় যখন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢেলেছে।
জানা গেছে, সারা বাংলাদেশ যখন ওসমান হাদীর বিয়োগব্যথায় কাতর, তখন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উল্লাস প্রকাশ করছেন।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার ঝড় তুলেছে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা আরিফ নেওয়াজ রফির একটি ফেসবুক পোস্ট।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আরিফ নেওয়াজ রফি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন।
স্ট্যাটাসটিতে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না।একজন শহীদের মৃত্যুতে এমন কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষপরায়ণ মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মৌলভীবাজারের ছাত্র-জনতা। মুহূর্তের মধ্যেই রফির এই স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট মৌলভীবাজারের বিভিন্ন ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন শহীদের মৃত্যুতে এমন উল্লাস কেবল বিকৃত মানসিকতার পরিচায়ক।এদিকে ওসমান হাদীর খুনিকে এখনো গ্রেফতার করতে না পারায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তার ওপর নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের এমন উল্লাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ছাত্র-জনতা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানাকারীদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাড়া দলমত নির্বিশেষে সারা বাংলাদেশ আজ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে আছে।

