নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার দ্বীনি শিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র মুন্সিবাজার দারুল হাদীস মাদরাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন আজ ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একইসঙ্গে সামনে এসেছে এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক শতাব্দীর গৌরবোজ্জ্বল ও ত্যাগী ইতিহাস।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে, ৩০ ও ৪০-এর দশকে এই প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল বায়তুল উলূম। ধর্মপুর গ্রামের বিশিষ্ট দানবীর মরহুম হাজী মুহাম্মাদ ইয়াকুবের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী বলরামপুর পীরের বাড়ি থেকে মুজাদ্দিদে জামান, আরিফ বিল্লাহ আল্লামা সাইয়েদ মাওলানা আব্দুল মজিদ (রহ:) কে নিয়ে এসে মুন্সিবাজার মসজিদের পাশে এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময়ে শিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মৌলভী মাহমুদুর রহমান (রহ:) ও কাজী মুফতী আব্দুল বারী চৌধুরী। এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই তৈরি হয়েছেন শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল বারী ধর্মপুরী ও মাওলানা জয়নাল আবেদীন দরগাহপুরীর মতো বরেণ্য আলেমগণ।দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ৯০-এর দশকে মাওলানা আব্দুর রহমান ধর্মপুরীর নেতৃত্বে গঠিত হয় হিলফুল ফুজুল মুন্সিবাজার।
এই সংগঠনের মাধ্যমে এলাকায় ইসলামী শিক্ষার জোয়ার সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ সালে মাওলানা কারী আলী আকবর সিদ্দিক (রহ:) ও মাওলানা আব্দুর রহমান ধর্মপুরীর প্রচেষ্টায় এক বিশাল কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।আধুনিক রূপায়ন ও বর্তমান নেতৃত্বজনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে মুন্সিবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ক্বিরআত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
মরহুম সিরাজুল ইসলাম চেয়ারম্যানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং জহুর আহমদ তরফদারের স্মৃতি রক্ষার্থে মাদরাসার নতুন গৃহ নির্মিত হয়। শায়খুল হাদীস আল্লামা নুর উদ্দিন গহরপুরী (রহ:) এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।পরবর্তীতে মরহুম আব্দুল মুক্তাদির তরফদার বিকম, মরহুম সাজিম আহমদ তরফদার এবং বর্তমান সভাপতি রুমেল আহমদ তরফদারের নেতৃত্বে মাদরাসাটি আধুনিক ও সুসংহত রূপ লাভ করে। অন্যদিকে, মুন্সিবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জননন্দিত চেয়ারম্যান নাহিদ আহমেদ তরফদার। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা আসলেও এলাকাবাসীর অতন্দ্র প্রহরায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ স্বমহিমায় ভাস্বর।
আজকের এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ তশরীফ আনবেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে এই ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।source: মাওলানা লুৎফুর রহমান জাকারিয়া,উপদেষ্টা সম্পাদক নিউজ bd24live

