প্রতিবেদক : রাহি ইসলাম, সহকারী জেলা প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার):মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা, দুর্নীতি এবং হয়রানির অভিযোগ এনে তীব্র প্রতিবাদ সভা করেছেন চার গ্রামের মানুষ। আলতাফ মাস্টারের ‘অপকর্মের’ কারণে তিতপুর, জিলাদপুর, আশিদ্রোন ও খোশবাস গ্রামের প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিনাতিপাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।গত (২৫ অক্টোবর) রাত ৮ ঘটিকায় পশ্চিম আশিদ্রোন গ্রামের আইয়ুব আলী মার্কেটে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। আইয়ুব আলী মার্কেট কমিটির সভাপতি মো. ফুল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় সভায় এলাকার মুরব্বি, কৃষক এবং ভুক্তভোগীরা আলতাফুর রহমানের নানা অপকর্মের বিস্তারিত তুলে ধরেন।পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সরকারি অনুদান আত্মসাৎ:সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আলতাফুর রহমান, যিনি এলাকায় ‘আলতাফ মাস্টার’ নামে পরিচিত, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চার গ্রামের ৩৫০-৪০০ জন কৃষককে সার, বীজসহ বিভিন্ন সরকারি অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করেন। ফটোকপিগুলো উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দেওয়ার কথা বললেও গ্রামবাসী কোনো অনুদান পাননি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা উপজেলা কৃষি অফিসে গেলে জানতে পারেন, তাদের সব অনুদান আলতাফুরের কাছে দেওয়া হয়েছে।সেচ প্রকল্পে বাধা ও হয়রানি:গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেন, আলতাফুর এই সংগৃহীত জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে উপজেলা বিএডিসি অফিসে নতুন সেচ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। অথচ গ্রামটিতে ইতিমধ্যেই দুটি সেচ প্রকল্প ১২ বছর ধরে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি এখন বিদ্যমান সেচ প্রকল্প দুটি বন্ধ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি একটি সেচ প্রকল্পের মিটার না দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে অভিযোগও দায়ের করেছেন। বক্তারা দাবি করেন, ৩৫০-৪০০ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে আলতাফুর নানা সরকারি কাজে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন, যার ফলস্বরূপ পুরো গ্রামবাসী চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।স্কুলের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ:সভায় স্থানীয়রা আলতাফুরের আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, আলতাফ এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেও সেখানে কোনো ক্লাস হয় না, নেই কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থী। অথচ তিনি এই প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে উপজেলা থেকে সরকারি বই এনে বিক্রি করছেন। একটি সংস্থা থেকে এলাকাবাসীর জন্য ডিপ টিউবওয়েল আনলেও তিনি তা কাউকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ ও অনুদান এনে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তার এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি প্রতিবাদকারীদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা:আলতাফুর রহমানের এসব ‘অন্যায়, দুর্নীতি ও অপকর্মের’ বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী ইতিমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শ্রীমঙ্গল থানা, উপজেলা কৃষি অফিস, বিএডিসি এবং মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।ভুক্তভোগী গ্রামবাসী আলতাফুর রহমানের অপকর্মের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

