মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুনর্গঠন না হওয়ায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যত অচল হয়ে আছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ৭ নভেম্বর চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করলেও এরপর থেকে পদগুলো আর পূরণ করা হয়নি। ফলে পরিচালনা কমিটি ছাড়া সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি চলছে অকার্যকর অবস্থায়।এ অবস্থায় গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে যার মধ্যে আছে স্বাধীন বাজেট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ’ গঠন এবং স্বাধীনতাবঞ্চিত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় বিস্তৃত ক্ষমতা যুক্ত করা।অধ্যাদেশটি গত ১০ নভেম্বর জারি করা হলেও এখনো কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এক হাজারের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে আছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, নিখোঁজ, গুম, হেফাজতে মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ নানা গুরুতর অভিযোগ।কমিশন সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান ও সাত সদস্যের ফুল বেঞ্চ না থাকায় কমিশন বর্তমানে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বিবৃতি দিতে পারছে না। কমিশনের সচিব সেবাস্টিন রেমা বলেন, “চেয়ারম্যান ও সদস্য না থাকায় আমাদের কাজ করতে বাধা তৈরি হয়েছে।
”অন্যদিকে কমিশনের পরিচালক কাজী আরফান আশিক সংশোধিত অধ্যাদেশটিকে “অন্তর্বর্তী সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেন। নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো বাহিনীর অনুমতি ছাড়াই গোপন আটক কেন্দ্র বা আয়নাঘর পরিদর্শন করতে পারবেন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়মুক্তির সুযোগও থাকবে না।সংশোধিত গেজেটে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য নির্যাতনবিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল বাস্তবায়ন। এই বিভাগের প্রধান হবেন কমিশনের চেয়ারপারসন এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন একজন কমিশনার ও একজন মানবাধিকারকর্মী।এদিকে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার সুরক্ষার দাবিও উঠেছে।
‘সংহতি’ নামের সংগঠনটি জানিয়েছে, যৌনকর্মীরা নাগরিক হয়েও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা পান না এবং নিয়মিত সহিংসতা, উচ্ছেদ ও বৈষম্যের মুখে পড়েন।আজ ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার আমাদের প্রতিদিনের অপরিহার্য বিষয়’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশে মানবাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও রেলিসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে তবে মানবাধিকার কমিশনের অকার্যকর অবস্থার এই বাস্তবতা দিবসটিকে ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরেছে।

