হাবিবুর রহমান সুমন ,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি :
মাদারীপুরে আজ ১০ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল লড়াইয়ের মুখে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং বিজয়ের পতাকা উড়তে শুরু করে মাদারীপুরে।স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যমতে, ৯ ডিসেম্বর খবর পাওয়া যায়—পাক হানাদার বাহিনী গোলাবারুদ, অস্ত্র, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও মুজাহিদ বাহিনীসহ মাদারীপুর ছেড়ে ফরিদপুরের দিকে সরে যাবে। এ তথ্য জানার পর মুক্তিবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় এবং ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজের পশ্চিমপাড় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান নেয়।
১০ ডিসেম্বর ভোরে পাক বাহিনী ঘটকচর ব্রিজ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। কয়েক ঘণ্টার তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শেষে বিকেলের দিকে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এ যুদ্ধে ২০ জন পাক সেনা নিহত হয়। একই সঙ্গে শহীদ হন মাদারীপুরের সর্বকনিষ্ঠ বীর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ সকালে বীর শহীদ সরোয়ার হোসেন বাচ্চুর সমাধিতে জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন খলিল বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান।
অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি সমাধিস্থলে এসে বাচ্চু শরীফের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান আরও জানান, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম স্থানীয় কোনো স্মৃতিস্তম্ভে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এখনো অরক্ষিত রয়েছে ১৫টি গণকবর। তিনি দ্রুত শহীদদের নাম স্মৃতিস্তম্ভে সংযোজন এবং গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

