জহরুল হক জনি,স্টাফ রিপোর্টার:
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।নবনিযুক্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু উপস্থিত থাকলেও জেলা প্রশাসনের দেওয়া পুষ্পস্তবকে তার নামের কোনো উল্লেখ ছিল না বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসনে প্রথম সফরে আসেন মন্ত্রী। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের কথা ছিল।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রীর জন্য পৃথক পুষ্পস্তবকের প্রস্তুতি থাকার কথা থাকলেও সেখানে কেবল “জেলা প্রশাসন” লেখা একটি পুষ্পস্তবক রাখা হয়।রাত ১১টা ৫০ মিনিটে শহীদ মিনার চত্বরে পৌঁছে বেদির দিকে এগিয়ে গিয়ে পুষ্পস্তবকে নিজের নাম না দেখে মন্ত্রী জেলা প্রশাসক (ডিসি) রকিব হায়দারের কাছে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।এ সময় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করেন।পরে ওই পুষ্পস্তবক নিয়েই মন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরবর্তীতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথকভাবে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া, ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।স্থানীয় সাংবাদিক তৌহিদ চঞ্চল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শহীদ মিনারে মাননীয় মন্ত্রীর নামে আলাদা পুষ্পস্তবক না রাখা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপেশাদার আচরণ প্রদর্শিত হওয়া একটি নিন্দনীয় ঘটনা।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি, শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়নি এবং শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়নি। যা প্রতিবারের ন্যায় ভিন্নভাবে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হলো লালমনিরহাটে।জহুরুল হক জনি নামের এক সচেতন নাগরিক বলেন, রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুযায়ী দায়িত্বরত একজন মন্ত্রী সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার অধিকারী।
তার জন্য পৃথক শ্রদ্ধাঞ্জলি না রাখা সুস্পষ্ট প্রটোকল লঙ্ঘন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক রকিব হায়দারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

