নিজস্ব প্রতিনিধিঃনরসিংদীর মনোহরদীতে আল-হেলাল যুব কল্যাণ পরিষদের নতুন সম্মেলন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত আহলে হাদীসের অনুসারী ও আওয়ামীলীগ পন্থী ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নির্দিষ্ট তারিখে নিয়মিতভাবে ইসলামী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ২০১৯ সালে ধর্মীয় মতবাদের বিরোধিতা, আহলে হাদীস অনুসরণের প্রচার, চরমান্দালীয়া ইউনিয়নে হেড কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কাবিননামা জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে দণ্ড, জেলহাজতে প্রেরণ এবং হজযাত্রীদের অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগে মাওলানা আব্দুল মান্নানকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে নতুন কমিটি গঠিত হয়ে টানা তিন বছর সম্মেলনটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজলু,এখলাস,যুবদল নেতা লিটন ফকির,আইনুদ্দীন,তারা মিয়া,ইসমাইল ডাক্তার,হাদুু মেকারদের আগ্রহে পুনরায় সম্মেলন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হলে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ফের বির্তক সৃষ্টি হয়।অভিযোগ উঠেছে—নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত মাওলানা আব্দুল মান্নান আগে থেকেই আওয়ামী লীগপন্থী এবং বিএনপির মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ঘোর বিরোধী। অতীতে তিনি বিভিন্ন নির্বাচনে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন বলেও জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিতর্ক ছাড়াও কাবিননামা জালিয়াতি, হাজীদের টাকা আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।কমিটির আরেক সদস্য লিটন সরকারও খিদিরপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনিও সরদার বকুলের বিরুদ্ধে সরব সমালোচক হিসেবে পরিচিত।ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত, রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি—এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সম্মেলনের নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

