মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধাবস্থা ও ব্যাপক অনিশ্চয়তা।
যুদ্ধের আগে থেকেই তেহরান সতর্ক করে দিয়েছিল তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি হবে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ইরাক, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে এসব দেশের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও আর্থিক ও শিল্পকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছে। দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামা, কুয়েতের বিমানবন্দর এবং কাতারের রাজধানী দোহাতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।অন্যদিকে, ইরানে চালানো হামলায় বহু সামরিক ও সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
একটি স্কুলে হামলায় শতাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো ব্যস্ত কেন্দ্রগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
পণ্যসামগ্রীর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।উপসাগরীয় দেশগুলো শুরু থেকেই এ সংঘাত এড়াতে চেয়েছিল। হামলার আগে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল। শান্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। তবে আকস্মিক হামলায় সেই সম্ভাবনা ভেঙে পড়ে।বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে।
তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় উত্তেজনা প্রশমন ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের বক্তব্যেও।রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র সংঘাতের এই নতুন বাস্তবতা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন নজর তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর যা নির্ধারণ করবে, এ আগুনের বলয় কত দূর পর্যন্ত ছড়াবে।

