মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এর যৌথ হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। এর জেরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, সৌদি আরব ও ইরাক এ। বন্ধ রয়েছে আঞ্চলিক ফ্লাইট চলাচল; সব ধরনের জাহাজের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি বাজারে। আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।শুধু জ্বালানি নয়, অস্থির হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারও। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টানা কয়েক দিনের পতন এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে। জাপান এর শেয়ারবাজারেও ৭ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সংঘাত দীর্ঘ হলে খাদ্য সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যসংকটকে তীব্র করতে পারে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কোভিডের সময়কার ধাক্কার চেয়েও বড় আঘাত পেতে পারে। তেলের দাম থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যয় সবখানেই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, নতুন করে চাপে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, গত সাত মাস ধরে রপ্তানি আয় কমছে। সামনে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সেই প্রত্যাশা ভেস্তে যেতে পারে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রেমিট্যান্স নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত, যেখান থেকে আসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেক।
সংঘাত বাড়লে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে।সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও নিম্নআয়ের দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে।

