মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ আর কোনোভাবেই ‘ভোট ডাকাতি’ মেনে নেবে না এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।রাত ১২টার পর মঞ্চে উঠে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন সবাইকে কেন্দ্রে যেতে হবে ফজরের আগেই। তিনি আহ্বান জানান, যার যার ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাতে কেউ আগেভাগে কেন্দ্র দখলের সুযোগ না পায়।
সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৫/১৬ বছরে জনগণের ভোটাধিকার কীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা মানুষ দেখেছে। এবার সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।গাজীপুরের মানুষকে আন্দোলনের অগ্রভাগের সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে এই জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়েছিল। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে গাজীপুরবাসীর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকায় ছোটবেলায় তিনি খেলাধুলা করেছেন এবং পরিবার নিয়ে এখানেই বসবাস করেছেন।
সে কারণে গাজীপুরের মানুষের কাছে তার একটি নৈতিক দাবি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার বিদায়ের পর এখন দেশ গড়ার সময়। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন পরিশ্রম ও ঐক্যের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সমাবেশে তিনি গাজীপুরের পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের বিজয়ের জন্য ভোট চান। পাশাপাশি গাজীপুরে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, শিল্প এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার, জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার, খাল খনন ও কৃষক কার্ড চালুর মতো উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা।
সমাবেশে মহানগর সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।এরপর রাত ১টায় উত্তরা ঈদগাহ মাঠে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের পক্ষে ভোট চান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে উত্তরাবাসীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
উত্তরার গ্যাস-পানির সংকট নিরসন, সরকারি হাসপাতাল স্থাপন, জলাবদ্ধতা দূর ও যানজট কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।সমাবেশ শেষে রাত ১টা ২০ মিনিটে তারেক রহমান উত্তরা থেকে গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরে ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

