নিজস্ব প্রতিবেদক:
মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হতে পারেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল সবর্ত্রই বইছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে মন্তব্য করছেন যে প্রীতম দাস জোটের মনোনয়ন পেলে তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জটলা সর্বত্রই এখন প্রীতম দাসের বিতর্কিত অতীত এবং সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনরোষের কেন্দ্রে রয়েছে প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা এবং নেটিজেনরা দাবি করছেন প্রীতম দাস এবং তার ভাই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে তিনি সবসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মামলার আসামী এবং বিতর্কিত নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে চলাফেরা করেন। বিগত জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জুলাই পরবর্তী সময়ে ভীমপল সিংহ নামক এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পুনর্বাসনের অভিযোগে প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুন ২০২৫ তারিখে সাধারণ ছাত্র-জনতা তাকে মৌলভীবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিলও করেছিল যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পুরনো অভিযোগটিও নতুন করে সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় ২০২২ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
সে সময় শ্রীমঙ্গলের ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যানারে তৌহিদী জনতা তাকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। মাহবুবুল আলম ভুইয়া নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছিল।
ধর্মপ্রাণ মুসলিম অধ্যুষিত এই এলাকায় এমন একজন ব্যক্তিকে জোটের প্রার্থী করা হলে তা সাধারণ ভোটারদের আবেগে আঘাত হানবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মৌলভীবাজার-৪ আসনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে প্রীতম দাসের মতো বিতর্কিত ভাবমূর্তির কাউকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হলে জোটের ভোট ব্যাংকে ধস নামবে এবং সাধারণ ভোটারদের বিমুখতার সুযোগে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার পথ সুগম হবে।
এনসিপির আড়ালে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার যে অভিযোগ প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে রয়েছে তা নির্বাচনের মাঠে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় জোটের নীতিনির্ধারকরা কী সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের সাধারণ জনগণ।

