সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

ভুল করে ভারতে প্রবেশ: দীর্ঘ কারাবাস শেষে ৬ জেলের মুক্তি!

Spread the love

আল-আমিন ,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

জীবিকার সন্ধানে নদীতে নেমে প্রবল স্রোতের টানে ভেসে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। এরপর দীর্ঘ কারাবাস। ভারতের মেঘালয়ের তুরা কারাগারে বন্দিজীবন শেষে অবশেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ছয় মৎস্যজীবী। বুধবার বিকেলে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকোগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে তারা যখন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন পুরো সীমান্ত এলাকায় সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।


​স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, চিলমারীর এই ছয় মৎস্যজীবী প্রতিদিনের মতোই জীবিকার তাগিদে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোত ও দিকভ্রমের কারণে তাঁদের নৌকাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। সে সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ তাঁদের আটক করে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের মেঘালয়ের তুরা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। অপরিচিত দেশের কারাগারে দীর্ঘ সময় বন্দি থাকার দিনগুলো ছিল তাঁদের জন্য দুর্বিষহ, আর দেশে থাকা পরিবারগুলোর জন্য ছিল চরম উৎকণ্ঠার।


​বুধবার সকাল থেকেই নাকোগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ভিড় করতে থাকেন নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা। বিকেলের দিকে বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিজিবির কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছয়জন মৎস্যজীবী যখন সীমান্ত সড়ক দিয়ে হেঁটে আসছিলেন, তখন তাঁদের চোখেমুখে ছিল দীর্ঘ ক্লান্তির ছাপ। তবে নিজ দেশের মাটিতে পা রাখার পর সেই ক্লান্তি নিমিষেই উবে যায়। স্বজনরা দৌড়ে গিয়ে কাউকে বুকে জড়িয়ে ধরেন, আবার কেউ আনন্দাশ্রু বিসর্জন দেন।
​দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে এক মৎস্যজীবীর বৃদ্ধ বাবা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, মনে হয়েছিল আর বুঝি ছেলেকে দেখতে পাব না। আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে আজ আমার ছেলেকে আবার বুকে জড়াতে পারলাম। এর চেয়ে বড় শান্তি আর কিছু নেই।
​প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। বিজিবি ও ভারতীয় বিএসএফের মধ্যে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৎস্যজীবীদের হস্তান্তর করা হয়। নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি প্রদান করে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। অসাবধানতাবশত সীমান্ত অতিক্রম করার ফলে যে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা রোধে জেলে ও মাঝিদের মধ্যে সীমান্ত আইন সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *