মোঃ সাইফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় নবনির্বাচিত সংসদ ও পরাজিত এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত এবং অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নদীবেষ্টিত প্রত্যন্ত গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয় এবং এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত চলছিল।নিহত হাবিবউল্লাহ (৪০) গোয়ালনগর গ্রামের স্কুলপাড়া এলাকার মসজিদের ইমাম ছিলেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক। নিহত আক্তার মিয়া বিএনপি নেতা রহিম তালুকদারের সমর্থক ছিলেন।নাসিরনগরের চাতলপাড় তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এলাকায় এখনো সংঘর্ষ চলছে।”স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত।
ওইদিন অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থক জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনী আটক করে এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।জিয়াউর রহমানকে আটকের পেছনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক শিশু মিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন সন্দেহ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।এরপর থেকে একাধিক দফায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। যদিও স্থানীয় সাংসদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপাতত মীমাংসা হয়েছিল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে প্রতিশোধের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান এলাকাবাসী।এএলাকাবাসীর অভিযোগ,মঙ্গলবারের সংঘর্ষ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। দিন-তারিখ ঠিক করে উভয় পক্ষই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করে টেটা, বল্লম, তীর-ধনুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।সংঘর্ষটি শুধু গোয়ালনগর গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; পুরো ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে অংশ নেয়।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সাংসদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএনপি নেতা রহিম তালুকদার। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন কাশেম মিয়া।রহিম তালুকদারের পক্ষে গোয়ালনগর ছাড়াও রামপুর, মাছমা, টেকানগর ও ভিটাডুবি গ্রামের লোকজন অংশ নেয়। অন্যদিকে কাশেম মিয়ার পক্ষে স্কুলপাড়া, শিমেরকান্দি, লালুয়ারটেক, সোনাতোলা, ঝামারবালি ও কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়দের একটি পক্ষ আরও জানান, সোমবার (২৩ মার্চ) স্থানীয় সংসদ সদস্যের গোয়ালনগর সফরের পর থেকেই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।আহতদেরকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
”ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।”এর আগে, গত ১৭ মার্চ একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। ওইদিন বিকেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

