সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

বিনিয়োগ সংকটে অর্থনীতি: আস্থাহীনতায় থমকে গেছে উন্নয়নের গতি।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র বিনিয়োগ সংকটের মুখে। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগপ্রস্তাব নিবন্ধনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতিকে গতিশীল করা সম্ভব নয়।

তবে আস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে, যা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি সব মিলিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও দুর্বল করে তুলছে।উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বাড়তি মাশুল, অগ্রিম আয়কর ও উৎসে করের চাপ ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতেই হিমশিম খাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলেও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এফডিআই বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নগদ প্রণোদনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীরা দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করলে বিনিয়োগের ১.২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবেন। পাশাপাশি বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার প্রথম ধাপ হিসেবে চীনে অফিস খোলা হবে।বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের হার কমে ২২.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৩.৫১ শতাংশ।

একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও দীর্ঘদিন ধরে ৭ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে।এফডিআই গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১.৫৩ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই, যেখানে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম বহু গুণ বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এমনকি পাকিস্তানও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতে সুশাসন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ছাড়া বিনিয়োগ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ সুদহার মিলিয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ চক্র তৈরি হয়েছে, যা বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *