ডেক্স রিপোর্ট
newsbd24live
ঢাকা:
দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত তিন সপ্তাহে দেশে অন্তত ৯৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স মূলত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্তত ৬ হাজার ৪৭৬ জন শিশু।
এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৮২৬ জন, যেখানে সরকারিভাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা ছাড়াই রোগীরা মারা যাচ্ছেন।
সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তিনি এই সংকটের পেছনে টিকার ঘাটতি এবং যথাসময়ে টিকাদান কর্মসূচি পালন করতে না পারাকে দায়ী করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার পর থেকে এ সংখ্যা কমে এসেছিল। কিন্তু দুই দশক পর আবারও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।
হাম নির্মূলের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং টিকা সংগ্রহে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক শিশু নির্ধারিত বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুই সিনিয়র মন্ত্রীকে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, ঢাকার ৩০টি স্পটসহ দেশের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও হাম শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৫ হাজার শিশু হামে মারা যায়। বাংলাদেশে এই মহামারি রোধে ব্যাপক জনসচেতনতা এবং গণ-টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

