রাহি ইসলাম, সহকারী মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি :
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে মৌলভীবাজারে। স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাংবাদিকরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রম অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নকে পাশ কাটিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
কোন নীতিমালা বা পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হয়েছে—সে বিষয়ে পিআইবি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।এই বৈষম্যের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচির পর পিআইবি কর্তৃপক্ষ ছয়জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় বিতর্কের অবসান না হয়ে বরং প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
সাংবাদিকদের মতে, দাবি ও প্রতিবাদ না হলে তারা স্থায়ীভাবেই বঞ্চিত থাকতেন।মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জাফর ইকবাল বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আমাদের সংগঠনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই অবস্থান কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হই।”মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুল বলেন,“সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যা পেশাগত অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।”এ বিষয়ে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মেহেদী হাসান বলেন,“রাষ্ট্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আয়োজন হলে সেখানে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে যাদের সাংবাদিকতার সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রশ্নবিদ্ধ—তাদের সুযোগ দিলে এই প্রশিক্ষণের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়।”একই ধরনের অভিযোগে সিলেটে পিআইবির প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, অংশগ্রহণকারী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কোনো একক জেলার সমস্যা নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।
সাংবাদিক নেতাদের মতে, নির্বাচনকালীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, তাদের আয়োজনেই যদি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করার বদলে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস বাড়াতে পারে।এ বিষয়ে পিআইবি বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

