সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

পাল্টে যাচ্ছে বাংলাদেশ! ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বললেই খুলবে নতুন দিগন্ত।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন কেবল জন প্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত গণভোট। ভোটাররা সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি একটি আলাদা ব্যালটে এই গণভোটে অংশ নেবেন। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চান কি না।

ভোটাররা এই সনদের পক্ষে বা বিপক্ষে কেবল ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদান করবেন।
​গত কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই গণভোট নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুরুতে সরকারের অবস্থান নিরপেক্ষ থাকলেও বর্তমানে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে প্রশাসন। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি রেডিও ও টেলিভিশনে এক বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।


​দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে দেশ মুক্ত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। তিনি দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন এক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ার আহ্বান জানান।


​জানা গেছে, সংস্কার কমিশনের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দফায় দফায় বৈঠকের পর এই গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সরাসরি সাংবিধানিক পরিবর্তনের সাথে যুক্ত এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


​যদিও এই ৮৪টি প্রস্তাবের সবকটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য মেলেনি। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু বড় রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনার ওপর তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে। প্রাথমিক আলোচনায় প্রস্তাব ছিল যে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি আছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে না পেরে সরকার জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।


​গণভোটের ফলাফল আগামী দিনের রাজনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে। যদি ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করে, তবে পরবর্তী জাতীয় সংসদ এই ৮৪টি ধারা বাস্তবায়নে আইনত বাধ্য থাকবে। পক্ষান্তরে যদি ‘না’ জয়ী হয়, তবে জুলাই সনদ কার্যকর করার সুযোগ হারাবে বর্তমান সরকার। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন এবং গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *