রাহি ইসলাম, সহকারী জেলা প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার)পর্যটন শহর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শান্ত-সবুজ প্রকৃতির শহরটি এখন যেন বিষাক্ত বর্জ্যের দখলে। একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় উপজেলার কলেজ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। ফলে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল একটি আবাসিক এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী এবং বাসিন্দা প্রতিদিন নাক চেপে, দম বন্ধ হয়ে, তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাগাড় সরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস আর মামলা জটিলতায় বন্দী হয়ে আছে জনদুর্ভোগ।জানা যায়, পুরো শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সারাদিনের বর্জ্য প্রতিদিন এই জায়গাতেই ফেলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ফলে বছরের পর বছর জমে থাকা আবর্জনায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ দূষণ, যা প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে ও পরিবেশে। এই ভাগাড়ের পাশেই অবস্থিত শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে প্রতিদিন ক্লাস করতে আসে।স্কুল-কলেজে যাতায়াতরত শিক্ষার্থীদের অনেককে দেখা যায় নাক-মুখে রুমাল চেপে হাঁটতে। অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবারই জীবনযাত্রা এখানে এখন দুর্বিষহ।এর আগে ২০১৮ সালে এই দুর্ভোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তখন আশ্বাস দেওয়া হলেও চার বছরেও সমাধান হয়নি।২০১৭ সালে নতুন ভাগাড়ের জন্য ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪৩ একর জমি ক্রয় করা হয়। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় মামলা হলে আদালত ২০২৩ সালের ১৩ মে পর্যন্ত কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে ডাম্পিং স্টেশন স্থানান্তর আটকে যায়।শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মো রহমান মিয়া বলেন এই দুর্গন্ধে ক্লাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। নাকে-মুখে রুমাল দিয়ে বসতে হয়। দ্রুত সমাধান না হলে বিষয়টি অসহনীয় হয়ে উঠবে।অধ্যক্ষ দীপ চাঁন কানু বলেন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে ভাগাড়টি সরানো প্রয়োজন।স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান দীর্ঘ আন্দোলন করেও কোনো সমাধান হয়নি। অথচ এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি।শ্রীমঙ্গল পৌর প্রশাসক মো ইসলাম উদ্দিন জানান স্থায়ী প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সমস্যার সমাধান হবে।এক হিসেবে এই ভাগাড়ের কারণে প্রায় ৪১ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম বৃহৎ জনবহুল শিক্ষা অঞ্চলটি রূপ নেবে পরিবেশ বিপর্যয় ও জনস্বাস্থ্যের ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

