সর্বশেষ
মার্চ ২১, ২০২৬

নিউজিল্যান্ড খালি করে দলে দলে মানুষ পালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়! নেপথ্যে কী?

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট, NewsBD24Live:


​উন্নত জীবন, অধিক উপার্জন এবং জৌলুসপূর্ণ ভবিষ্যতের আশায় নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা এখন দলে দলে দেশ ছাড়ছেন। গত এক বছরে দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও বেশি মানুষ দেশ ত্যাগ করেছেন, যাদের প্রধান গন্তব্য প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়া। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ডের এই উদ্বেগজনক চিত্র।


​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডের দুর্বল শ্রমবাজার এবং করোনা-পরবর্তী অর্থনীতির মন্থর গতির কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন দেশটির রাজধানী ওয়েলিংটনের সদ্য সাবেক মেয়র টরি ফানাও।


​মাত্র তিন মাস আগেও ৪২ বছর বয়সী টরি ফানাও ওয়েলিংটনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি এখন বাক্সপেটরা গুছিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, সাগরের ওপারে মনে হচ্ছে আলোর ঝলকানি একটু বেশি।


​মিজ ফানাওয়ের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, মেয়রের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি রাজনৈতিক স্পটলাইট থেকে দূরে থাকতে চেয়েছিলেন। এছাড়া বর্তমান রক্ষণশীল সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি থাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি একা নন; তার মতো হাজারো নিউজিল্যান্ডার এখন হতাশ হয়ে বিদেশের মাটিতে ভাগ্য অন্বেষণ করছেন।


​পরিসংখ্যান বলছে, গত অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে নিউজিল্যান্ডের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী দেশ ছেড়েছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার লোভনীয় বেতন কাঠামো, উন্নত কর্মসংস্থান এবং জীবনযাপনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাই তাদের আকৃষ্ট করছে।

নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, তখন প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার হাতছানি উপেক্ষা করা কিউইদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​বিশ্লেষকদের মতে, মহামারী পরবর্তী সময়ে নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বেশ সময় নিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সীমিত আয়ের কারণে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে তৈরি হয়েছে এই রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসন স্রোত, যা দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য এক নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


​সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *