সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

নাটক সিনেমার গল্পকেও হার মানালো শরীয়তপুরের ভুয়া ধর্ষণ কান্ড!

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট | newsbd24live:

শরীয়তপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনার মোড় ঘুরে গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে। নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে যে নারী ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছিলেন, পুলিশি তদন্ত ও ডাক্তারি পরীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে তার আসল পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন, ওই নারী কলেজছাত্রী নন এবং ধর্ষণের যে অভিযোগ তিনি করেছিলেন, তা প্রাথমিকভাবে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে।


​বয়ান পরিবর্তন ও সন্দেহের দানা
ঘটনার শুরু থেকেই অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যে অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে ধাপে ধাপে তিনটি ভিন্ন বয়ান দেন, যা সন্দেহের উদ্রেক করে।



​প্রথম ভাষ্য: প্রথমে তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা শেষে এক সহপাঠীর সঙ্গে বাসের অপেক্ষায় থাকার সময় কয়েকজন যুবক তাদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তার বন্ধুকে মারধর করে এবং তাকে ১০ জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।


​দ্বিতীয় ভাষ্য: পরবর্তীতে তিনি সুর পাল্টে জানান, ১০ জন নয়, মূলত একজন তাকে ধর্ষণ করেছে এবং বাকিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।
​তৃতীয় ও শেষ ভাষ্য: শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেন যে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জননী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ফেসবুকে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে শরীয়তপুরে ঘুরতে আসেন। সেখানে ফুচকা ও ভুনা-খিচুড়ি খাওয়ার পর রাস্তায় হাঁটার সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে। তারা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে, ছবি তোলে এবং একজন তার শরীরে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে। এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ওভাবে ধর্ষণ করা হয়নি।”

​পুলিশ ও চিকিৎসকের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
​ওসি গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি নিজেই ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি কোনো কলেজছাত্রী নন, বরং তিনি বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জটিলতা থেকেই তিনি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বা গল্প সাজিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”


​সামাজিক প্রভাব ও আইনি বিশ্লেষণ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সত্যতা যাচাই না করেই অনেকেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
​সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ‘ফিটিংবাজি’ বা মিথ্যা অভিযোগ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। মিথ্যা মামলার আড়ালে বড় ধরনের অপরাধ বা ব্ল্যাকমেইলিং চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। যদি তদন্তে এটি সাজানো নাটক বা প্রতারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মিথ্যাচারের সাহস না পায়।


​পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *