সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

নাটক, বাদ বাছাই আর বিতর্ক পেরিয়ে জনপ্রশাসনে ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি।

Spread the love

মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ

নানা নাটকীয়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনপ্রশাসনে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল রাতে প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপনে একীভূত ইকোনমিক ক্যাডারসহ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২০তম ব্যাচ, অন্যান্য ক্যাডার ও লেফট আউট কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

যদিও শুরুতে ১৩০ জনের পদোন্নতির কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ১২ জনের নাম বাদ পড়ে, ফলে যোগ্য ও দলবাজি না করা কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাদ পড়েছেন নৈশ ভোটের সময় জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের পিএস, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী পিএস ও এপিএস, অন্ধ অনুসারী এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে, স্বৈরাচারী আমলে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, শতাধিক অনুবিভাগ ও প্রেষণ পদে অতিরিক্ত সচিবের অভাবে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, এই পদোন্নতি তা কাটাতে সহায়ক হবে।

বর্তমানে বহু দপ্তর ও সংস্থায় প্রধানের পদ শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চলছে, যার ফলে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।নির্বাচনের আগে প্রশাসনে পদোন্নতির চাপ ছিল দীর্ঘদিনের। ২০তম ব্যাচের যুগ্ম সচিবরা নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর সন্তোষজনক চাকরির পর অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য হলেও চার বছর পার করেও তা পাননি অনেকে। ফলে প্রশাসনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ে এবং বিভিন্ন দপ্তর সংস্থায় শীর্ষপদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকে।তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে আসছিল ২০২৪ সালের জুনে যেখানে সংখ্যা ছিল ৫৪৬, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা নেমে আসে ২৮৮-এ।

এই ঘাটতির কারণে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক এবং প্রায় ৮০টি অনুবিভাগে পদায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সীমিত আর্থিক ক্ষমতা ও চেইন অব কমান্ডের জটিলতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।সব বাধা ও আপত্তি অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার গতকাল রাতে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রশাসনে গতিশীলতা ফেরাতে এ সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও বাদ পড়া কর্মকর্তাদের অসন্তোষ এখনো কাটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *