মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিদায় এবং নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে সামনে রেখে দেশজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামীকাল নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বঙ্গভবন থেকে সচিবালয় সবখানেই নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক সরকারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নিচ্ছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী প্রার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তখনই শপথ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের ধাপ শুরু হবে।
ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন।তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান উপদেষ্টারা আর কোনো নতুন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন না, তবে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু থাকবে। শপথ কে পড়াবেন স্পিকার, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি নাকি অন্য কেউ এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব সম্পন্ন করা হবে।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, এরপর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন হবে। সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান পাবেন। কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের যোগ্যতা পায়।নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গভবনে এবং নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে, পরে মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আগেই জানিয়েছিলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ কার্যত শূন্য থাকায় শপথ গ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হলেও সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-ও একই ধরনের মত দিয়েছে।সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই নেওয়া হয়, তবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে টেকনোক্র্যাট সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। শপথ শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের কার্যক্রম শুরু হবে।

