মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন উজ্জ্বল ,ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল সিএনজি স্ট্যান্ডে চলমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সিএনজি চালকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড অবরোধ করেছেন। সম্প্রতি, সিএনজি চালকদের কাছ থেকে প্রতি যাত্রায় ২০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা চাঁদা আদায়ের নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চালকরা। এই ঘটনায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে পুরো এলাকার যান চলাচল অচল হয়ে পড়েছিল।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজি চালকরা সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবী, অতিরিক্ত চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং পূর্বের নিয়মে ২০ টাকার চাঁদা আদায় ফিরে আনতে হবে।
এর ফলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের যান চলাচল স্থগিত হয়ে যায়, যার কারণে আশেপাশের এলাকা ও সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।অবরোধের পর ত্রিশাল থানার ওসি ঘটনাস্থলে এসে সিএনজি চালকদের সাথে আলোচনা করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সাময়িক সমাধান আসার পর, সিএনজি চালকদের আন্দোলন ভেঙে যায় এবং যান চলাচল শুরু হয়।ত্রিশাল থানার ওসি জানান, তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এটি প্রথম নয়, গত বছরেও ত্রিশালে সিএনজি চালকদের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, তবে এবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিএনজি চালকদের অভিযোগ, ‘জিপি’ নামে পরিচিত একটি চাঁদাবাজ চক্র তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। সিএনজি চালকরা এই অবিচারের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে তাদের আন্দোলন শুরু করেছেন এবং অবিলম্বে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ত্রিশালের স্থানীয়রা জানান, সড়কে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের কারণে তারা নিত্যদিনই সমস্যায় পড়ছেন, যা এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।ত্রিশালের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সঠিকভাবে চলতে হলে প্রশাসন এবং স্থানীয় সিএনজি স্ট্যান্ডের মালিকদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। সিএনজি চালকদের আন্দোলন থেকে স্পষ্ট যে, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিবাদ হতে পারে।

