সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

তিমি মায়ের দুধ: পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ‘তরল সোনা’!

Spread the love

তিমির দুধ নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং ঘনত্বপূর্ণ তরলগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞানীদের মতে, এর পুষ্টিগুণ ও চর্বির পরিমাণ সাধারণ গরু বা মানুষের দুধের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। সামুদ্রিক এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধ প্রাকৃতিকভাবেই এতটাই উচ্চ-চর্বিযুক্ত (প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত) যে এটি তরল ক্রিমের মতো স্থিতিশীল থাকে এবং সমুদ্রের পানিতে মিশে যায় না।এই দুধের অবিশ্বাস্য ঘনত্বের কারণেই বাচ্চা তিমিরা পানির নিচেই মায়ের কাছ থেকে সরাসরি পান করতে পারে। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে, যেখানে উষ্ণতা কম, সেখানে সদ্যোজাত তিমির জন্য উষ্ণতা ও শক্তির এক চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করে এই ঘন, উচ্চ-চর্বিযুক্ত দুধ।দ্রুত বৃদ্ধি ও তাপ সুরক্ষার চাবিকাঠিবাচ্চা তিমির জন্য এই উচ্চ-চর্বিযুক্ত দুধ একরকম জাদুর মতো কাজ করে। এটি তাদের দ্রুত বৃদ্ধি ও ওজন বাড়ার জন্য অপরিহার্য ‘জ্বালানি’ সরবরাহ করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই দুধ পান করার ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা তিমিরা প্রতিদিন প্রায় কয়েক কিলোগ্রাম হারে ওজন বাড়াতে সক্ষম হয়।সাগরের ঠান্ডা পরিবেশে নিজেদের শরীরকে উষ্ণ রাখতে এবং টিকে থাকতে প্রচুর পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়। তিমি মায়ের এই ‘সুপারফুড’ সেই শক্তি ও শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখার উপযুক্ত উপাদান সরবরাহ করে, যা তাদের সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়। উচ্চ-চর্বিযুক্ত এই দুধ প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে, যা ঠান্ডা পানিতেও জমাট বাঁধে না। তিমি মায়ের দুধ প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি, যা একটি সুবিশাল প্রাণীর দ্রুত বৃদ্ধি ও টিকে থাকার রহস্য ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *