ডেস্ক রিপোর্ট:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং কলম্বিয়াকে সামরিক অভিযানের হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নাটকীয়ভাবে সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চরম উত্তেজনার মধ্যেই কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ এক ফোনালাপের পর এই আকস্মিক সম্পর্কেরান্নয়নের খবর পাওয়া যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় জানান যে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সাথে কথা বলা তার জন্য পরম সম্মানের। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে পেত্রো নিজেই তাকে ফোন করেছিলেন এবং তারা মাদক সমস্যা ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক মতবিরোধ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি পেত্রোর কথা বলার ধরণ ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং খুব শীঘ্রই ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে দুই নেতার বৈঠকের আয়োজন চলছে তবে দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার প্লাজা বলিভারে সমবেত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেত্রো এই ফোনালাপের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন আমাদের ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে যে আমরা যদি কথা না বলি তবে যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি জানান ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা মূলত ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি এবং মাদক পাচার রোধ নিয়ে হয়েছে।
পেত্রো তার ভাষণে আরও বলেন আমি তাকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের সাফল্যের পরিসংখ্যান দিয়েছি। কিছু রাজনীতিবিদ ট্রাম্পকে আমাদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছে যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল।
উল্লেখ্য গত জানুয়ারি ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বোগোটা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছিল। ট্রাম্প প্রশাসন কোনো প্রমাণ ছাড়াই বারবার অভিযোগ করে আসছিল যে পেত্রো সরকার যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারে সহায়তা করছে। এমনকি মাত্র কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প পেত্রোকে আক্রমণাত্মক ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর লাতিন আমেরিকায় যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তা প্রশমন করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন কূটনৈতিক পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। কলম্বিয়া দীর্ঘ দুই দশক ধরে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সামরিক মিত্র হিসেবে পরিচিত এবং ন্যাটো বহির্ভূত অন্যতম প্রধান সহযোগী রাষ্ট্র।
উৎস: আল জাজিরা

