ডেক্স রিপোর্ট | newsbd24live
ইরানে টানা ১৫ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উইয়ন এবং এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। এই বৈঠককে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইরানি বিরোধী দলের প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের যোগাযোগ বলে মনে করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা যদি ভেঙে পড়ে, তবে নিজেকে একজন অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন রেজা পাহলভি। সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকে ইরানের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে একটি বৈঠক করেছে। যদিও সেই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প তার পোস্টে বিক্ষোভকারীদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সাহায্য পথেই আছে।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। বিক্ষোভে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ব্রাসেলসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইইউ। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের ক্র্যাকডাউন এবং হতাহতের সংখ্যা ‘ভয়াবহ’। এর জবাবে ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইইউ দ্রুত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইউরোপের দেশগুলোতেও। ইতালির মিলানে মঙ্গলবার শত শত মানুষ ইরানের স্বাধীনতার দাবিতে সমাবেশ করেছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগের ইরানের জাতীয় প্রতীক ‘সিংহ ও সূর্য’ খচিত পতাকা দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতাকার মাঝখানের অংশ কেটে ফেলে দেন এবং আমেরিকার প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ইতালির রোমেও শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশাল ভবনে পুরোনো এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রেজা পাহলভির সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের এই যোগাযোগ এবং ইউরোপের কঠোর অবস্থান ইরানের বর্তমান সরকারের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নেয়, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই পদক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

