নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ‘প্রশ্নাতীতভাবে নাকচ’ করে দিয়ে দেশের প্রগতিশীল ও সচেতন মহল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও অতীতের আচরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মানচিত্র এবং জাতীয় চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জনগণ বারবার তাদের ক্ষমতা দখলের চেষ্টাকে প্রত্যাখান করেছে এবং এই দেশকে আর ‘অন্ধকারে ফেরানো যাবে না’।আলোচনায় উঠে আসে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ দেশের মৌলিক ভিত্তির পরিপন্থী। তাদের প্রতিটি পুনরুত্থানের প্রচেষ্টাই জনগণের হৃদয় থেকে জোরালো প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।ন্যায় ও সংহতির বাংলাদেশে বিশ্বাস:বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ন্যায়, মানবতা ও সংহতির ভিত্তিতে পরিচালিত একটি দেশ। এখানে প্রত্যেক নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষিত। তবে এই স্বাধীনতাকে কোনো ‘ষড়যন্ত্রের ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ছদ্মবেশে প্রশাসনে অনুপ্রবেশ, বিভাজনের রাজনীতি অথবা ধর্মের নামে রাষ্ট্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টা এই মাটিতে সফল হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।দেশের কওমী, সুন্নী, হিন্দু, তরুণ এবং প্রগতিশীল—সকল শ্রেণির মানুষ আজ একটি ‘অটুট বন্ধনে’ আবদ্ধ। এই বন্ধনের মূল লক্ষ্য হলো মাটিকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার পথে রাখা।প্রতিরোধ নয়, সুরক্ষা মূল দায়িত্ব:নেতারা দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, যে মাটিতে শহীদদের রক্ত মিশে আছে এবং যেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান ধ্বনিত হয়েছিল, সেই বাংলাদেশে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ কখনোই স্থায়ী স্থান পাবে না। তাদের মতে, আজকের মূল দায়িত্ব শুধু প্রতিরোধ নয়, বরং ‘সুরক্ষা’—বাংলাদেশের মানচিত্র, ইসলাম এবং আলেম-উলামাদের মর্যাদা রক্ষা করা।বক্তব্যসমূহে ঘৃণার রাজনীতির পরিবর্তে ‘মানবতার রাজনীতি’র উপর জোর দেওয়া হয়। যারা বিভ্রান্ত পথে পরিচালিত হয়েছেন, তাদের জন্য গণতন্ত্র, ন্যায় ও মুক্তচিন্তার বাংলাদেশে ফিরে আসার দরজা সবসময় খোলা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে বলা হয়, এই দেশ কারও শত্রুতা নয়, বরং সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং এক নতুন ভবিষ্যতের আহ্বান।

