জবি প্রতিনিধি,আবির কর:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্র ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার দাসের বিরুদ্ধে জবির এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা এবং বহিরাগতদের দিয়ে অপমানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা এক বহিরাগত ব্যক্তিও ওই শিক্ষার্থীকে হুমকিস্বরূপ ও কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তূর্ণা নিশিথা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের ১৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
এছাড়াও তিনি নাওয়াব ফয়জুন্নেসা হল শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উদযাপন কমিটি–২০২৬ এর সক্রিয় কর্মী।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে নাওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজার জন্য অর্থ অনুদান সংগ্রহ ও আমন্ত্রণ জানানোর উদ্দেশ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যালয়, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান তূর্ণা নিশিথা। এ সময় সেখানে উপস্থিত জবি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার দাস তাকে উদ্দেশ্য করে নানা রকম কটূক্তি করেন।পরে চন্দন কুমার দাসের সঙ্গে থাকা এক বহিরাগত সহযোগী উদয় নামের এক ব্যক্তি তূর্ণা নিশিথাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি এখানে কেন এসেছেন? এবার এসেছেন, আর আসবেন না।
এখানে যে আসবে, সে চন্দনের মাধ্যমে আসবে। আপনার যা কথা আছে, চন্দনের সাথেই বলবেন— আপনি আর আসবেন না।”এ ঘটনার পর অভিযুক্তরা তার সম্পর্কে আরও অসাধু মন্তব্য ও কটূক্তি করেন বলেও অভিযোগ করেন তূর্ণা নিশিথা। তিনি জানান, এসব বক্তব্য তার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক, মানহানিকর ও অগ্রহণযোগ্য।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, সনাতনী শিক্ষার্থী ও সমাজের কল্যাণে দীর্ঘদিন কাজ করার পর যদি কোনো সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা বহিরাগতদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণের শিকার হতে হয়, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চন্দন কুমার দাসের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাংগঠনিক পদবি ব্যবহার করে তিনি অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিকবার প্রশ্ন উঠলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তারা।এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সিনিয়র–জুনিয়র শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চন্দন কুমার দাসের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তিনি।

