ডেক্স রিপোর্ট:
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান না বরং আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলটি অধিগ্রহণের পথেই এগোতে চান। মার্কিন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।রুবিও স্পষ্ট করে বলেন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই।
তাঁর ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ডেনমার্ককে আলোচনায় বসতে চাপ সৃষ্টি করা সামরিক শক্তি প্রয়োগ নয়।গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয় তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
তাঁর মতে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর থেকেই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা আসায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এক সাক্ষাৎকারে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি।
তাঁর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কেউ সামরিকভাবে দাঁড়াবে না।এ ধরনের মন্তব্যে ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সংঘাত শুরু হলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা টিম সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সব বিকল্প সবসময় টেবিলে থাকে তবে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ বরাবরই কূটনীতি।এদিকে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়েও প্রশ্ন উঠলে লেভিট জানান যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পাশে থাকবে তবে পারস্পরিক দায়বদ্ধতাও প্রত্যাশা করে ওয়াশিংটন।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

