সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

গেন্ডারিয়ায় উন্নয়নের নামে নরকযন্ত্রণা: আইজি গেট থেকে দয়াগঞ্জ যেন মৃত্যুফাঁদ!

Spread the love

গেন্ডারিয়া উপজেলা প্রতিনিধি:

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গেন্ডারিয়া এলাকায় উন্নয়নের নামে চলছে দীর্ঘমেয়াদী খোঁড়াখুঁড়ি। মূল সড়কগুলোতে ড্রেনেজ পাইপ বসানো এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ গত কয়েক মাস ধরে চললেও কাজের ধীরগতির কারণে এলাকাটি এখন জনদুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি খনন এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


​সরেজমিনে দেখা যায় আইজি গেট থেকে দয়াগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সড়কজুড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ। তবে এই উন্নয়ন কাজ আশীর্বাদের বদলে এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বিশাল অংশ জুড়ে গভীর গর্ত করে রাখা হয়েছে। এর ফলে রাস্তার প্রশস্ততা কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। বিশেষ করে অফিস ও স্কুলগামী যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকে থাকতে হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি।


​যানজটের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ সংস্কার কাজ চলাকালীন সময়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। গভীর খাদের পাশে শক্ত কোনো ব্যারিকেড বা সতর্কতামূলক নির্দেশিকা না থাকায় পথচারী এবং যানবাহনগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। বিশেষ করে রাতে অপর্যাপ্ত আলোর কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে পড়েছে।


​এলাকাবাসীর দাবি উন্নয়ন কাজ জরুরি হলেও তা জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে করা উচিত। মাসের পর মাস রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় ধুলাবালিতে এলাকার বাতাসও দূষিত হচ্ছে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন পরিকল্পনামাফিক দ্রুত কাজ শেষ করা না হলে আসন্ন বর্ষায় এই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *