মোঃ শাহনুর রহমান লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকাঃ
দেশে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সব রাজনৈতিক শক্তিকে মতপার্থক্য ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিভেদ নয় জাতীয় ঐক্যই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি দেশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে প্রত্যক্ষ করেছে। মতভেদ যেন কোনোভাবেই বিভাজনের কারণ না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসামূলক বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তিনি।
রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাই সময়ের দাবি।অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিভাজনের রাজনীতি বারবার জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা রাজনৈতিক কর্মীদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, দেশে সমস্যা ছিল এবং এখনও আছে, তবে কোনো অবস্থাতেই ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া কাম্য নয়।নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আগামী ২২ তারিখ থেকে দলের সব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাবেন তিনি।চার কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রস্তাবঅনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য একটি সর্বজনীন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এই কার্ডের মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এর মাধ্যমে ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি জানান, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নারীদের হাতে অর্থ গেলে তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।
এই কর্মসূচি হবে দলীয় পরিচয় ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্যহীন, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগস্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন করতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।এই কর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী হবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, গণমাধ্যমের সমালোচনা এমন হওয়া উচিত, যা দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

