ডেক্স রিপোর্ট:
পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলীর ভেতর থেকে এখনো নিখোঁজ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
করাচির সাউথ ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সৈয়দ আসাদ রাজা জানিয়েছেন রবিবার সন্ধ্যা থেকে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালানোর পর আরও আটটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা ছয় থেকে বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশ সার্জন ডা. সুমাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঁচটি মরদেহ আনা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মোবাইল ফোনের ডেটা ব্যবহার করে নিখোঁজ ৫৪ থেকে ৫৯ জনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং বিস্তারিত সংগ্রহের জন্য তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
করাচি হলো পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর এবং সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিনধুর গভর্নর কামরান টেসোরি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান যে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি এই নিখোঁজ সংবাদকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন এবং এই ঘটনাকে একটি জাতীয় ট্রাজেডি বা জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেন।
শনিবার গভীর রাতে জনাকীর্ণ গুল প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ৩৬ ঘণ্টার প্রাণপণ প্রচেষ্টার পর বিশাল এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পরই উদ্ধারকারী দল ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে প্রবেশ করতে পারে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে দীর্ঘ সময় আগুনের তাপে ভবনটি এখন অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। সোমবার উদ্ধারকারী প্রধান কর্মকর্তা আবিদ জালাল জানান মলের কিছু অংশে নতুন করে আগুনের শিখা দেখা দেওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টা পুনরায় শুরু করতে হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল কোনো একটি দোকানের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে স্থানীয় দোকানদার এবং বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে ফায়ার সার্ভিসের বিলম্বিত উপস্থিতি এবং পানি ও সরঞ্জামের অভাব আগুনকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ তাদের কয়েক দশকের উপার্জনের সম্বল চোখের সামনে ছাই হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য করাচিতে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অবৈধ নির্মাণের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। এছাড়াও ২০১২ সালে করাচির একটি গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ঘটনা আবারও শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

