সর্বশেষ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

কমলগঞ্জে চুরির নাটক নাকি গভীর ষড়যন্ত্র?২ লাখ ২৭ হাজার টাকা গায়েব

Spread the love

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের বলরামপুরে ব্যবসায়ী শামসুল মিয়ার বাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনাটি কোনো সাধারণ অপরাধ ছিল না। বরং এটি ছিল সুপরিকল্পিত একটি ইনসাইডার জব বা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক নাটক।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক অপু আবুল হাসান এবং তার টিমের দীর্ঘ দুই সপ্তাহের নিবিড় তদন্তে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য ও রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।​ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৯টায়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামসুল মিয়ার স্ত্রী দাবি করেছিলেন, রাতের খাবার শেষে বিশ্রামের সময় ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

তারা তাকে বেঁধে মারধর করে এবং ঘরে থাকা ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, আতঙ্কে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পর ২৩ ডিসেম্বর দুবাই প্রবাসী আমদাদুর রহমানের মাধ্যমে বিষয়টি সাংবাদিক অপু আবুল হাসানের নজরে আসে এবং ভুক্তভোগীর ছেলে জামাল আহমেদের অনুরোধে তিনি তদন্ত শুরু করেন।​

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ঘটনার অসংগতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী নারী দাবি করেছিলেন তিনি আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়েছিলেন, কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায় ঘটনার সময় তার হার্টবিট ও রক্তচাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল, যা ওই পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদন্তে আরও জানা যায়, শামসুল মিয়ার স্ত্রী গত কিছুদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছিলেন এবং গোপনে ওই নাম্বারে প্রায় ১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন।

​প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারী দল জানতে পারে, সন্দেহভাজন বিকাশ নাম্বারটি বুলবুল নামের এক ব্যক্তির নামে ময়মনসিংহের ঠিকানায় রেজিস্টার্ড হলেও, আদতে সেখানে এই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিকাশ অ্যাকাউন্টটি বরিশালের সোমা নামের এক সহজ-সরল নারীর নামে খোলা ছিল, যিনি এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

এটি ছিল মূলত পরিচয় চুরির মাধ্যমে অপরাধী চক্রের একটি কৌশল।​সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে ডিজিটাল ফরেনসিক ও টাওয়ার ডাম্পিং প্রযুক্তির ব্যবহারে। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঘটনার দিন সন্দেহভাজন ওই নাম্বারের লোকেশন ছিল শমসেরনগর ও টিলাগাঁও এলাকায়। কল লিস্ট রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৪ জন এবং পরোক্ষভাবে ১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিস্ময়করভাবে, ভিন্ন ভিন্ন স্থানের বাসিন্দা হলেও ঘটনার দিন ও সময়ে এই ৪ জনের অবস্থান ছিল একই স্পটে।​অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঘটনার মূল হোতা হিসেবে যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তিনি গত তিন মাসে সিলেট বা মৌলভীবাজারের বাইরে যোগাযোগ না করলেও, চুরির ঘটনার পরদিন থেকেই ঢাকার বেশ কিছু নাম্বারে ঘনঘন যোগাযোগ শুরু করেন।​সাংবাদিক অপু আবুল হাসান জানান, এটি একটি অত্যন্ত জটিল মামলা ছিল যা দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ছাড়া সমাধান করা কঠিন হতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল এই স্পর্শকাতর মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সত্য উদঘাটনের স্বার্থে এবং অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে নিউজ বিডি ২৪ লাইভ সব সময় আপসহীন ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে তদন্তের সকল তথ্য-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *