জায়েদ আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র শমশেরনগর চা বাগানের গল্ফ মাঠ ধ্বংসের আশঙ্কায় স্থানীয় ছাত্র-যুবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিকভাবে বুধবার সকাল থেকে ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন শমশেরনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ গল্ফ মাঠ ও আশপাশের টিলা খুঁড়ে চা গাছ ও রাবার গাছ রোপণের কাজ শুরু করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।জানা গেছে, শমশেরনগর গল্ফ মাঠ দীর্ঘদিন ধরে জেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসেন।
কিন্তু কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই মাঠের একটি অংশ খুঁড়ে ফেলায় পরিবেশ ও পর্যটন খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শমশেরনগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চমোহনা এলাকায় এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, চা বাগান কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি প্রতিষ্ঠিত পর্যটন কেন্দ্র এভাবে ধ্বংস করার অধিকার তাদের নেই। তারা আরও জানান, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করেই কাজ শুরু করেছে।
পর্যটক নজমুল ইসলাম বলেন, “চা বাগান কর্তৃপক্ষ যে কাজ করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র ধ্বংস করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? চাইলে তারা টিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন চালু করে গল্ফ মাঠ সংরক্ষণ করেও আয় বাড়াতে পারত।”বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ ও এস এম এ মোহিন বলেন, “পর্যটন স্পট ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।”এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “এ এলাকাটি চা বাগানের নিজস্ব জমি। অবাধ পর্যটক প্রবেশে গল্ফ মাঠ ও চা বাগানের ক্ষতি হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই এখানে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে।”এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,“বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।
চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অবাধ পর্যটক প্রবেশের কারণে সমস্যার কথা তারা জানিয়েছে, তবে সবদিক বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

